মো. মোস্তাফিজুর রহমান খান: বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ও বাইশফাঁড়ী সীমান্তে পৃথক দুটি বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। অভিযানে সর্বমোট ২ লাখ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর চৌকস টহল দল এই সফল অভিযান দুটি পরিচালনা করে।
রবিবার (১১ অক্টবর ২০২৬ইং) সকালে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্নেল এস এম খায়রুল আলম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) দিবাগত রাত আনুমানিক ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘুমধুম বিওপির একটি বিশেষ টহল দল অভিযান শুরু করে। সীমান্ত পিলার-৩২ থেকে আনুমানিক ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ‘জামালের ঘের’ নামক স্থানে এই অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় সন্দেহভাজন গতিবিধি লক্ষ্য করে তল্লাশি চালিয়ে ১০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবাসহ দুই রোহিঙ্গা নাগরিককে হাতেনাতে আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন, মোঃ ইসলাম (২৫): পিতা- মোঃ হোসেন, এফডিএমএন ক্যাম্প-০৮, ব্লক- বি/৮১ এবং মোঃ মোজিবুল্লাহ (২৩): পিতা- মোঃ জলিল, এফডিএমএন ক্যাম্প-০৮, ব্লক- বি/৭৪।
বাইশফাঁড়ী সীমান্তে দ্বিতীয় অভিযান ও বিপুল পরিমান ইয়াবা উদ্ধার: অপরদিকে, আজ রবিবার (১১ অক্টোবর ২০২৬) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশফাঁড়ী বিওপির একটি বিশেষ টহল দল সীমান্ত পিলার-৩৫ সংলগ্ন এলাকায় নজরদারি বাড়ায়। সীমান্ত পিলার থেকে প্রায় ১০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ‘মধ্যপাড়া’ নামক এলাকায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালালে মাদক কারবারিরা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল থেকে মালিকবিহীন পরিত্যক্ত অবস্থায় ১ লাখ ৯০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
| অভিযানের স্থান ও বিওপি |
সময় ও তারিখ |
উদ্ধারকৃত ইয়াবার পরিমাণ |
ফলাফল |
| জামালের ঘের (ঘুমধুম বিওপি) |
১০ অক্টোবর, রাত ৯:০০ |
১০,০০০ পিস |
২ জন রোহিঙ্গা আটক |
| মধ্যপাড়া (বাইশফাঁড়ী বিওপি) |
১১ অক্টোবর, ভোর ৪:০০ |
১,৯০,০০০ পিস |
পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার |
| সর্বমোট |
— |
২,০০,০০০ পিস |
২ জন আটক |
বিজিবি জানায়, আটক দুই রোহিঙ্গা নাগরিকের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া উদ্ধারকৃত বিপুল পরিমাণ ইয়াবার বিষয়ে প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম জানান, “বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারাতেই নয়, বরং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের অধীনস্থ ৩৪ বিজিবি সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদক চোরাচালানসহ বিভিন্ন অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। সীমান্তে মাদক পাচার রোধ এবং দেশের যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে সুরক্ষিত রাখতে বিজিবির এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”