Breaking news

চুয়েটে চলছে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি, দীর্ঘ অচলাবস্থায় বাড়ছে সেশনজটের ঝুঁকি Share
চুয়েটে চলছে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি, দীর্ঘ অচলাবস্থায় বাড়ছে সেশনজটের ঝুঁকি

চুয়েটে চলছে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি, দীর্ঘ অচলাবস্থায় বাড়ছে সেশনজটের ঝুঁকি

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে টানা ১৬ দিন ধরে চলছে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি। শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে টানা প্রতিবাদী কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। ফলে বন্ধ আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক-প্রশাসনিক কার্যক্রম। হচ্ছে না নিয়মিত ক্লাস ও ল্যাব।   

এখন শিক্ষার্থী-অভিভাবক সবার সামনে একটিই প্রশ্ন- কী হবে চুয়েটের ছয় হাজার শিক্ষার্থীর। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন কোন পথে? কখন সমাধান হবে এই সমস্যার। দীর্ঘ অচলাবস্থায় সেশনজটের ঝুঁকিতে পড়ার শঙ্কা আছে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন। ১৬ দিন পার হলেও সমস্যা সমাধানে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।

অন্যদিকে, নতুন ভিসি শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা বন্ধ করে দিলেও দাবির মুখে তা গতকালই আদায় করা হয়। তাছাড়া, গতকালও শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা ক্যাম্পাসে প্রতিবাদী মিছিলসহ ননাা কর্মসূচি পালন করেন।  

২০০৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর এটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় রূপ পায়। বর্তমানে চুয়েটে পাঁচটি অনুষদের অধীনে ১৮টি বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর মিলিয়ে মোট শিক্ষার্থী আছে ৬ হাজার ৩৬৭ জন।

চুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. মেহেদী হাসান বলেন, দিন যত যাচ্ছে, আমাদের দুশ্চিন্তা তত বাড়ছে। ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় পড়াশোনা কতটা পিছিয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। এই পরিস্থিতি আর কতদিন চলবে? আমাদের ভবিষ্যৎ কী হবে- এখন সেটাই আমাদের সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয়। দ্রুত একটা সমাধান চাই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার হিশাম বলেন, আমরা চাই সরকার আমাদের দাবি মেনে নিয়ে বিষয়টি দ্রুত সমাধান করুক। আমাদের শিক্ষাজীবনে সেশনজটের দাগ চাই না। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা উদ্বেগের মধ্যে আছি।

চুয়েটের দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থীর পিতা আবু আহমেদ বলেন, অনেক স্বপ্ন নিয়ে সন্তানকে চুয়েটে ভর্তি করিয়েছি। এখন টানা দুই সপ্তাহ ধরে চুয়েট বন্ধ। দেশের অন্যতম বৃহত্তম এই বিশেষায়িত বিশ্ব বিদ্যালয়টি এতদিন বন্ধ থাকা তা কোনোভাবেই মানা যায় না। আমরা এর সুষ্ঠু সমাধান চাই। শিক্ষার্থীদের সুষ্ঠু শিক্ষা জীবন চাই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মঈনুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকেরাও আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। ফলে ইতোমধ্যে ৬টি বিভাগের প্রায় ৬টির মতো নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত আছে। সংকটের সমাধান হলে দ্রুত সময়ের মধ্যেই পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে।

জানা যায়, গত ২৭ জুলাই চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে তাকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ড. সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন।

২২ সেপ্টেম্বর সকালে ড. সায়েমকে অপসারণের প্রতিবাদ ও তাকে পুনর্বহালের দাবিতে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পর্যায়ক্রমে দানা বাঁধে চরম অসন্তোষ। পরে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীরাও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকরাও যুক্ত হওয়ায় আন্দোলনে নতুন গতি পায়। কিন্তু আন্দোলনের মধ্যেই গত ২৪ সেপ্টেম্বর ক্যাম্পাসে না এসে অনলাইনে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরীফুল আলম যোগদান করেন। এরপর থেকে তিনি সার্কিট হাউসে অবস্থান করছেন। নতুন উপাচার্যের যোগদানের খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা লাল কার্ড দেখিয়ে বিক্ষোভও করেন। 

অন্যদিকে, আন্দোলনের ১৫তম দিনে গত মঙ্গলবার প্রথমবারের মত ক্যাম্পাসের বাইরে এসে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। অসংখ্য শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ড. সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠি, নানা স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করা হয়। তাছাড়া, গত মঙ্গলবার নতুন উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ হাজার ৮৭ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সেপ্টেম্বর মাসের বেতন ও উৎসব ভাতা বন্ধ করে দেন। সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপককে চিঠি দিয়ে তিনি বেতন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। তবে বুধবার সকালে শিক্ষক-কর্মচারীর দাবির মুখে বেতন-ভাতা প্রদান করা হয়।  

চুয়েট শিক্ষক সমিতির যুগ্ম-সম্পাদক সামিউন বাসির বলেন, দাবির মুখে চুয়েটের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ভাতা পরিশোধ করা হয়েছে।

সোনালী ব্যাংক চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপক জয়ন্ত ভৌমিক বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছিলাম। এর কিছুক্ষণ পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে সমস্যাটি সমাধান হয়েছে।

বিবিএন২৪/এমআরকে/ ০৮ অক্টোবর ২০২৬,


Published: 2026-10-08 04:41 am   |   View: 1163   |   Share
Advertisement


Copyright © 2017, Design & Developed By Softech



up-arrow