পুষ্টি, শক্তি ও সুস্বাস্থ্যের অন্যতম সহজলভ্য উৎস ডিমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) বিশ্ব ডিম দিবস উদযাপন করা হয়েছে।
‘ডিমে পুষ্টি, ডিমে শক্তি, ডিমে আছে রোগমুক্তি’ প্রতিপাদ্যে শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি মেডিসিন অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্স (এফভিএমএএস) অনুষদের উদ্যোগে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়।
সকালে অনুষদীয় চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ৩৬ জুলাই চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুনের মাধ্যমে ডিমের পুষ্টিগুণ এবং সুস্বাস্থ্য রক্ষায় এর ভূমিকা তুলে ধরে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন অডিটোরিয়ামে দিবসটির তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডেইরি অ্যান্ড পোল্ট্রি সায়েন্স বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল ইসলাম। সভায় সভাপতিত্ব করেন এফভিএমএএস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. তৈমুর ইসলাম। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন ডেইরি অ্যান্ড পোল্ট্রি সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোসা. খাইরুন্নেসা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কৃষিবিজ্ঞান ও গবেষণার সঙ্গে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। মানুষের জন্য আরও নিরাপদ, পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর ডিম এবং মুরগির মাংস উৎপাদনে গবেষকদের আরও মনোযোগী হতে হবে।
তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে উন্নত বিশ্বের গবেষণা ও উদ্ভাবন থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশের বাস্তবতায় কার্যকর প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে হবে। ডিম যেন কেবল বিশেষ কোনো শ্রেণির মানুষের খাবার না হয়ে সবার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় স্থান পায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবারের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে উৎপাদনব্যবস্থা ও গবেষণার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন উপাচার্য।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ উন্নয়ন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মঞ্জুরুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল আলম, ডেইরি অ্যান্ড পোল্ট্রি সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদুর রহমান এবং প্যাথোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. গোলাম হায়দার।
অনুষ্ঠান শেষে ফ্ল্যাশ পোস্টার প্রেজেন্টেশন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন উপাচার্য।
বিবিএন২৪/এমআরকে/ ১০ অক্টোবর ২০২৬,